রাজস্থলীতে শিং মাছ চাষে সফলতার স্বপ্ন, সরকারি সহায়তায় বদলাচ্ছে প্রান্তিক খামারিদের জীবন
উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী প্রতিনিধি :
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় শিং মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি প্রদর্শনী খামার, যা স্থানীয় খামারিদের মাঝে আধুনিক মাছ চাষে আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ মে) উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের শাকিপুর আবাসিক পাড়ায় এস.এম আলাউদ্দিনের ৪০ শতক আয়তনের পুকুরে এই প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ খামারে প্রায় ২ হাজার শিং মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। ৮ জন সুফলভোগী এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যার মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে মাছ চাষের অপার সম্ভাবনা থাকলেও অনেকেই সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে এগিয়ে আসতে পারেন না। সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই প্রদর্শনী খামারের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় খামারিরা জানান, বাজারে শিং মাছের চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এই মাছ চাষ লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা পেয়ে তারা উৎসাহিত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মাছ চাষের পরিকল্পনা করছেন।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার নারীদের মাছ চাষে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, “শুধু মাছ উৎপাদন নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাও আমাদের লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারিদের স্বাবলম্বী করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে রাজস্থলীতে বাণিজ্যিক মাছ চাষের প্রসার ঘটবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।













