| ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে পাহাড়ি বাঙ্গালিদের মাঝে ২৬ হাজার চারা বিতরণ

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে পাহাড়ি বাঙ্গালিদের মাঝে ২৬ হাজার চারা বিতরণ

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার ১৯ জুলাই ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন দিঘীনলা জোনে স্থানীয় পাহাড়ি বাঙ্গালিদের মাঝে মোট ২৬০০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্তিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের মেজর শিবাবুন সাকিব রুশাদ পিএসসি, উপ-অধিনায়ক ৪ ইবি, এ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন আব্দুল্লা আল আজমী, উপ-অধিনায়ক মেজর মো: রুশাদ পিএসসি বলেন, একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।

কর্মসূচিতে স্থানীয়, ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা, ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অংশগ্রহণকারীরা দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

দীঘিনালা জোন কর্তৃপক্ষ জানায়, সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কাপ্তাই জেটিঘাটে ইঞ্জিনচালিত বোট থেকে দিনমজুরের মরদেহ উদ্ধার

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে পাহাড়ি বাঙ্গালিদের মাঝে ২৬ হাজার চারা বিতরণ

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটির কাপ্তাই জেটিঘাটে একটি ইঞ্জিনচালিত বোট থেকে আতাউল্লাহ (৫২) নামের এক যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ​মৃত আতাউল্লাহ সিলেটের কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হলেও তিনি গত বেশ কয়েক বছর ধরে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বসবাস করে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তার পিতার নাম মহিব উল্লাহ। ​

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে আতাউল্লাহ বিলাইছড়ির ফারুয়া এলাকা থেকে হলুদ বোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত বোটে চড়ে কাপ্তাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বোটটি সন্ধ্যায় কাপ্তাই জেটিঘাটে এসে পৌঁছানোর পর অন্য যাত্রীরা নেমে গেলেও আতাউল্লাহ বোটেই বসে থাকেন। বোটের চালক তাকে না নামতে দেখে ভেবেছিলেন তিনি হয়তো ঘুমাচ্ছেন। ​পরবর্তীতে অনেকক্ষণ ধরে তার কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় চালক ও স্থানীয়রা কাছে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে তারা নিশ্চিত হন যে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ জানান, খবর পেয়ে থানা পুলিশসহ তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বর্তমানে মৃত ব্যক্তির মরদেহ কাপ্তাই জেটিঘাটেই রয়েছে।

পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।

ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে পাহাড়ি বাঙ্গালিদের মাঝে ২৬ হাজার চারা বিতরণ

 

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাম্প্রতিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন উপলক্ষে একটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর আলম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়েস চাকমা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা, বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় জানানো হয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে ৪০ কেজি চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি রসুন, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, একটি বালতি, একটি মগ, একটি বদনা, একটি গামছা, একটি টর্চলাইট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন, লাইফবয় সাবানসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হবে। পাশাপাশি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়া নিরাপদ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, অস্থায়ী আশ্রয়, স্যানিটেশন সুবিধা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ, সহায়তা কার্যক্রমে সমন্বয় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদানকারী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে— সিডা (Sida), সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা; নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs of the Netherlands); জোয়া ওভারসিজ এইড (ZOA Overseas Aid); কনরাড এন. হিলটন ফাউন্ডেশন (Conrad N. Hilton Foundation); এবং স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ (Start Fund Bangladesh)।

সভায় জানানো হয়, এসব উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহায়তায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জীবিকায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে।

বক্তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য সবাইকে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

কাপ্তাই হ্রদ থেকে বিএনপি নেতার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে পাহাড়ি বাঙ্গালিদের মাঝে ২৬ হাজার চারা বিতরণ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

কাপ্তাই হ্রদ থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৫৩ ঘণ্টা পর মো. মাসুদ (৫০) নামের এক স্থানীয় বিএনপি নেতার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার (২০ জুলাই) আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২ দিকে গরুটিলা এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মো. মাসুদ কাপ্তাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং কাপ্তাই বিএফআইডিসি শিল্প এলাকার চিপার হাউস এলাকার ইসমাইল সওদাগরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমী ফল ও কাঁচামালের ব্যবসা করে আসছিলেন।

​স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, মো. মাসুদ নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে বিলাইছড়ি ও ফারুয়া বাজার থেকে মালামাল কিনে শনিবার ইঞ্জিনচালিত বোটযোগে কাপ্তাইয়ে ফিরে আসতেন। গত শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৩ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর আজ দুপুরে গরু টিলার এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

​খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন। এর আগে নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর নৌবাহিনীর ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছিল। এছাড়া গত শনিবার রাইংখিয়ং বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে মালামালসহ তাঁর খালি বোটটি উদ্ধার করা হয়েছিল।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। বর্তমানে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

×