শিরোনাম:

কাপাসগোলা মহিলা কলেজে ৬ কোটি টাকার শিক্ষা অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

কাপাসগোলা মহিলা কলেজে ৬ কোটি টাকার শিক্ষা অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চকবাজার এলাকায় প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার(১৩ মে)২৬ খ্রিঃ কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজ মাঠে আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, নবীন বরণ, বিদায় সংবর্ধনা এবং প্রশাসনিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধন হওয়া প্রকল্প দুটি হলো— ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডস্থ কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজ সড়কের উন্নয়ন কাজ এবং কলেজের প্রশাসনিক ভবনের ২য় তলা থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প।

অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক ও উন্নত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। কাপাসগোলা মহিলা কলেজের সড়ক উন্নয়ন ও ভবন সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পাঠ গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো যত উন্নত হবে, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও আগ্রহও তত বাড়বে। আমরা চাই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ করতে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় ৬০৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের রাস্তা উঁচু করে ইউনিব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হবে।

অন্যদিকে কলেজ ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ২য় তলা থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোর সম্প্রসারণ করা হবে। প্রতিটি ফ্লোরে ৫টি করে মোট ২০টি আধুনিক ক্লাসরুম নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন হবে প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট।

অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাজমা বিনতে আমিন এবং কলেজ গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ।

স্বাগত বক্তব্য দেন কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নূর বানু চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ডাক্তার সরওয়ার আলম চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তা, শাফকাত বিন আমিন এবং সহকারী প্রকৌশলী রূপক চন্দ্র দাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বান্দরবানের সাঙ্গু নদী থেকে নিখোঁজের ১৮ ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার।

কাপাসগোলা মহিলা কলেজে ৬ কোটি টাকার শিক্ষা অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

মো: আলম; বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের মরদেহ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত যুবকের নাম হৃদয় (২২)।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১৪ মে) সকাল দিকে শহরের কালাঘাটা নতুন ব্রিজের নিচে সাঙ্গু নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে হৃদয় বাড়ি থেকে বোটঘাটা সাঙ্গু নদীতে গোসল করতে আসে। কিন্তু বেলা ঘড়িয়ে গেলেও সে বাড়ীতে ফিরে না যাওয়ায় তাকে খোঁজাখুঁজি করে স্বজনরা। এক পর্যায়ে সাঙ্গু নদীর চরে তার ব্যবহৃত জুতা দেখতে পেলেও তাকে না পাওয়ায় ধারনা করা হচ্ছে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় হৃদয়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পাননি।

আজ সকালে পুনরায় অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থলের কিছু দূরে নদী থেকে হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজ বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

পাহাড়ি ঐতিহ্য রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুলোক শশী চাকমা

কাপাসগোলা মহিলা কলেজে ৬ কোটি টাকার শিক্ষা অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা:

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার থানা পাড়া মৃত কিনা চান চাকমার ছেলে সুলোক শশী চাকমা (৬৫) চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন সুলোক শশী চাকমা।

তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে, ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ৮ মে পর্যন্ত ২৮টি বছর ধরে তিনি চাকমা সম্প্রদায়ের রীতি-নীতি অনুসারে ১৩৯ জন তরুণ-তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন করিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।

দিঘীনালার ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমার সূত্রে জানা যায়, সুলোক শশী চাকমা বৌদ্ধ ধর্মীয় নিয়ম মেনে বিবাহ মন্ত্র পাঠ করেন এবং চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী “চুঙলং” বা “যদন” অনুষ্ঠান ওঝা (মন্ত্র পাঠ পরিচালনা করেন। ফলে প্রতিটি বিয়ে সম্পন্ন হয় ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদার মধ্য দিয়ে।

উপজেলার গ্রামের কোথাও কোনো বিবাহ অনুষ্ঠান হলেই সুলোক শশী চাকমাকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এবং তিনি উপস্থিত থেকে নিজ দায়িত্বে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

তাঁর এই দীর্ঘদিনের অবদান চাকমা সমাজে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে সুলোক শশী চাকমা বলেন, চাকমা সম্প্রদায়ের ঘিরে কোথাও কোন গ্রামে মানসম্মত চুঙলং বা যদন অনুষ্টান হলে একমাত্র তিনি সুসম্পন্ন করতে চলেছেন। এই ধরনের বিবাহ সম্পাদনের জন্য সুলোক শশী চাকমাকে মোবাইল ফোনে কল করে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বির্তকিত বিবাহ ও বাল্য বিবাহ অনুষ্টান থেকে বিরত থাকেন এবং কোন প্রকার বিবাহ সনদ প্রদান থেকে বিরত রয়েছেন বলে জানান।

সুলোক শশী চাকমা আরো বলেন, বিবাহ কার্যকর পবিত্রতার রক্ষার্থে প্রতি বছরে অন্তত একবার বৌদ্ধ মন্দিরে অস্থায়ী শ্রামন প্রবজ্যা গ্রহন করেন। এবং তিনি তিথি অনুসারে অষ্টশীল পালন করেন।

সুলোক শশী চাকমা এই উদ্যোগ পাহাড়িদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্ম যদি এই রীতিনীতি লালন করে, তাহলে আমাদের জাতির সংস্কৃতি ও পরিচয় ঠিকে থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন সুলোক শশী চাকমার মতো ব্যক্তিরা পাহাড়ি সংস্কৃতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতির প্রতি আরও সচেতন ও আগ্রহী করে তুলছে বলে অনেকেই মনে করেন।

এলাকাবাসীর মতে, সুলোক শশী চাকমার এই অবদান শুধু চাকমা সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং সমগ্র চাকমার সংস্কৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

বাঘাইছড়িতে সন্দেহভাজন দুই যুবক আটক

কাপাসগোলা মহিলা কলেজে ৬ কোটি টাকার শিক্ষা অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

 

আনোয়ার হোসেন,
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মডেল টাউন এলাকা থেকে সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় তাদের আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন—
মোঃ ওবায়দুল হক রবিউল ইসলাম (৩০)। তিনি বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মডেল টাউন এলাকার বাসিন্দা।

অপরজন মোঃ নবীর হোসেন (২০)। তিনি মডেল টাউন এলাকার আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে বুধবার গভীর রাতে মডেল টাউন এলাকায় টহল ডিউটির সময় দুই যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে তাদের আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বাঘাইছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা ও জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় তাদের আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়।”

তিনি আরও জানান, আটককৃতদের দেহ তল্লাশি ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় কোনো ইয়াবা, মাদকদ্রব্য কিংবা অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি । তবে তাদের চলাফেরা ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে আটক করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, সম্প্রতি এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ও রাতের বেলা সন্দেহজনক চলাফেরা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের টহল ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×