| ২৭ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে শহীদ শামসুদ্দিন স্মৃতি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বিউবো নিরাপত্তা একাদশ

কাপ্তাইয়ে শহীদ শামসুদ্দিন স্মৃতি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বিউবো নিরাপত্তা একাদশ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি ;

দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে আবারও মাঠে গড়াল ঐতিহ্যবাহী ‘শহীদ শামসুদ্দিন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে কাপ্তাই প্রজেক্ট এলাকার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

​ফাইনাল ম্যাচে ‘ডু অর ডাই একাদশ’কে ৪-২ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ‘বিউবো নিরাপত্তা একাদশ’। ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে কাপ্তাই প্রজেক্ট এলাকাসহ আশপাশের অঞ্চলের মোট ৮টি দল অংশগ্রহণ করে।

​পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে শহীদ এ কে এম শামসুদ্দিনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “১৯৭১ সালে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী আদর্শ ও নীতিবান ব্যবস্থাপক শহীদ শামসুদ্দিনের স্মৃতি রক্ষার্থে এই টুর্নামেন্টটি আয়োজিত হতো। নানা প্রতিকূলতা ও মাঠ সংকটের কারণে প্রায় দেড় যুগ এটি বন্ধ ছিল। পুনরায় এটি চালু হওয়ায় পাহাড়ি জনপদে ফুটবল উন্মাদনা ফিরে এসেছে, যা নতুন খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে।”

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কইসুল বারী, জাতীয়তাবাদী বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) কাপ্তাই শাখার সভাপতি মোঃ বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, রাঙ্গামাটি জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম, পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক (নিরাপত্তা) সাখাওয়াত কবির, সিবিএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোরশেদ আলম এবং সাবেক ফুটবলার জামাল উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।

​বক্তারা বলেন, খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। বর্তমান সময়ের সামাজিক ব্যাধি মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। সুস্থ ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে ছাত্র ও তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান বক্তারা।

​দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে কাপ্তাইয়ের ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই থেকে ভবিষ্যতে আরও অনেক ভালোমানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

দীঘিনালায় প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার সাপ্তাহিক ত্রুয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

কাপ্তাইয়ে শহীদ শামসুদ্দিন স্মৃতি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বিউবো নিরাপত্তা একাদশ

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কলেজটিলা গ্রামে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার সাপ্তাহিক ত্রুিয়া অনুষ্টান পালিত হয়েছে।
শনিবার ২৭ জুন সকালে নিজ বাসভবনে বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান, পিন্ডু দানসহ নানাবিধ দানের যগ্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের উপস্থিতিতে ধর্মদেশনা, সূত্রপাঠ, পিণ্ডদান এবং প্রয়াতের আত্মার সদগতি ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সংঘ প্রধান হিসেবে উপস্তিত ছিলেন দীঘিনালা বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় শুভবন্ধন মহাস্হবির ভান্তে, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন সাধনাটিলা বন বিহারের অধ্যক্ষ বুদ্ধ বংশ মহাস্হবির ভান্তে উপস্তিত ছিলেন।

এ সময় প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বুদ্ধ বংশ ভান্তে প্রয়াতের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন একজন সৎ, বিনয়ী ও সমাজসেবামূলক মানসিকতার মানুষ। তাঁর মৃত্যু পরিবার ও সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মাঝে প্রিতীভোজন ও মধ্যাহ্নভোজ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিলাইছড়ি বাজার গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট ফাইনাল অনুষ্ঠিত : চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার হুদ

কাপ্তাইয়ে শহীদ শামসুদ্দিন স্মৃতি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বিউবো নিরাপত্তা একাদশ

বান্দরবানে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে মানববন্ধন।

কাপ্তাইয়ে শহীদ শামসুদ্দিন স্মৃতি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বিউবো নিরাপত্তা একাদশ

উথোয়াইচিং মারমা ; বান্দরবান:

বান্দরবানে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজনে ও  বন্ধুসভার সহযোগিতায়

এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ (২৬ জুন) জেলার আওতায় আজ বিকেল সাড়ে ৪ টায় বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।

দেশজুড়ে জনসচেতনতামূলক মানববন্ধন ও বিশেষ শপথ গ্রহণ কর্মসূচির আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

“মাদককে না বলতে হবে, মাদকাসক্ত একটি ব্যাধি” এই প্রতিপাদ্যে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে এবং মাদক, ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সচেতনতামূলক এই আয়োজন।

এতে ছাত্র-শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক, মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এ সময় প্রথম আলোর বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন নারী নেত্রী উসিংম্যা মারমা, কৃপা ত্রিপুরা, বান্দরবান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিনুর রহমান প্রামাণিক, বান্দরবান সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মেহেদি হাসান, হিল রাইটার্স ইউনিয়ন বান্দরবান শাখার সভাপতি মংক্য শোয়েনু নেভী, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচ মং মারমা প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে শুধু মাদক-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই প্রায় ৮২ হাজার, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই তুলে ধরে।

বক্তারা আরো বলেন, একটি সুন্দর দেশ ও সমাজ গড়তে হলে সবার আগে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকের কারণে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই নিজেকে বদলানোর পাশাপাশি অন্যদেরও মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতন করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে মাদকের অপব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

মানব বন্ধন শেষে মাদকের বিরুদ্ধে শপথ বাক্য পড়ানো হয়।

×