শিরোনাম:

পার্বত্য ভূমি ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে কাপ্তাইয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের বিশেষ পরিদর্শন

পার্বত্য ভূমি ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে কাপ্তাইয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের বিশেষ পরিদর্শন

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলা ভূমি অফিস ও ১০০নং ওয়াগ্গা মৌজার হেডম্যান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) শারমিন জাহান। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি এই বিশেষ পরিদর্শন সম্পন্ন করেন। ​অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার প্রথমে কাপ্তাই উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। দাপ্তরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর তিনি ১০০নং ওয়াগ্গা মৌজার হেডম্যান কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি স্থানীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, নামজারি (মিউটেশন) প্রক্রিয়ার জটিলতা, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে বিদ্যমান সমস্যা এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয়রা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ​

পরিদর্শনকালে শারমিন জাহান হেডম্যান ও কারবারিদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হেডম্যান কার্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। ​হেডম্যান ও কারবারিদের দাপ্তরিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ​”পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি সেবা আরও গতিশীল করতে হেডম্যান-কারবারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।” ​

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন, উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, ১১৯নং ভাইয্যাতলী মৌজার হেডম্যান থোয়াই অং মারমা, ১০০নংওয়াগ্গা মৌজার হেডম্যান অরুন তালুকদার, উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিমল জ্যোতি চাকমা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান, উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরুণ চাকমা, স্থানীয় কারবারি অজিত কারবারি সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য ভূমি ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে কাপ্তাইয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের বিশেষ পরিদর্শন

 

​কাপ্তাই প্রতিনিধি :

কাপ্তাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সীমান্ত সংলগ্ন চন্দ্রঘোনা রেশম বাগান এলাকায় অবস্থিত একটি বৌদ্ধ বিহারে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ মার্চ দিবাগত রাতে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানাধীন ২নং হোছনাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ‘জঙ্গল দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর রেশম বাগান থেরওয়াদা বৌদ্ধ বিহারে’ এই চুরির ঘটনা ঘটে।

চোরচক্র বিহারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন আকারের মোট ১২টি মূল্যবান পিতলের বুদ্ধমূর্তি নিয়ে গেছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

​বিহার পরিচালনা কমিটির দেওয়া তথ্যমতে, গত ১৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিহারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যবসায়ী শুইহ্লাপ্রু মারমা বিহারের দরজায় তালা দিয়ে বাড়িতে যান। পরদিন ১৮ মার্চ সকাল ৭টার দিকে তিনি বিহারে এসে দেখেন সদর দরজার তালা ভাঙা। ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান ৪, ৫ ও ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ১২টি পিতলের মূর্তি উধাও। তবে বড় আকারের পিতল ও সিমেন্টের মূর্তিগুলো অক্ষত ছিল।

এ ঘটনায় শুইহ্লাপ্রু মারমা (৫৯) বাদী হয়ে গত ১৮ মার্চ রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে একই এলাকার কেসুনো মার্মা (৫০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, বিহারের সিসিটিভি ফুটেজে দুই ব্যক্তিকে রাতের অন্ধকারে কৌশলে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত কেসুনো মারমা কোনো নির্দিষ্ট পেশা নেই এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিহার পরিচালনা কমিটির সাথে বিরোধে লিপ্ত ছিলেন। চুরির ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই তাকে ও তার সহযোগীদের বিহারের আশেপাশে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।

​পবিত্র উপাসনালয়ে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিহারে আসা পুণ্যার্থী ও এলাকাবাসী  জানান,”আমরা দ্রুত চুরি হওয়া পবিত্র বুদ্ধমূর্তিগুলো উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”​চোর শনাক্ত ও স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার কারণে অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী পক্ষ।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও বাদীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত কেসুনো মারমা ও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

মানিকছড়িতে এক নারী লাশ উদ্ধার

পার্বত্য ভূমি ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে কাপ্তাইয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের বিশেষ পরিদর্শন

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলা মানিকছড়ি উপজেলাতে ভোলাইয়াপাড়া গ্রামের তাসলিমা আক্তার (কাজল) (৩০) নামের তার ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালের সাড়ে ৯টার দিকে তার বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও নিহত তাসলিমা আক্তার কাজলের মা ফাতেমা বেগম ও বাবা আবদুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার স্বামী ইব্রাহীম খলিল স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে ঝুলিয়ে রেখেছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে নিহত তাসলিমা আক্তার (কাজল) ও তাঁর স্বামী ইব্রাহীম খলিলের মধ্যে সাংসারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। সকালের সাড়ে ৯টায় দিকে ঘরের সিলিং সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাসলিমা আক্তার কাজলকে দেখতে পায় তাঁর মেয়েরা। পরে তাদের চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।

এ সময় স্বামী ইব্রাহীম খলিল পাশের একটি ঘরে নাশতা তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে দাবি করা করেন।

স্থানীয়রা এগিয়ে এসে লাশটি উদ্ধার করে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসলিমা আক্তার কাজলকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনা মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. আল আমিন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা হাসপাতালে এসে লাশটি দেখতে পান। লাশের গলায় ফাঁস দেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে উল্লেখ করে মো. আল আমিন আরও জানান, আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত ঘটনা জানা যাবে।

রামগড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা,দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

পার্বত্য ভূমি ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে কাপ্তাইয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের বিশেষ পরিদর্শন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় ;

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার কেন্দ্রীয় মসজিদ রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অপরিষ্কার ড্রেনের উপচে পড়া নোংরা পানি, তীব্র দুর্গন্ধ এবং খোলা ড্রেনে মুরগির রক্ত ও বর্জ্য ফেলার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করায় পানি জমে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মুরগি ড্রেসিংয়ের রক্ত ও বর্জ্য, যা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলা ড্রেনে ফেলছেন। ফলে ড্রেনের পানি কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দুর্গন্ধের কারণে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রাস্তার দুই পাশে বসে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জমে থাকা পচা পানি ও মুরগির বর্জ্য থেকে মশা ও বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে, যা ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

রামগড় বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হেসেন ভুঁইয়া বলেন, “পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা জরুরি।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই মসজিদ রোড কাদা ও ময়লায় একাকার হয়ে যায়, ফলে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা পৌর প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

×