সূর্যমুখী বাগানে ছবি তুলতে পাহাড়ি তরুণীদের ঢল
রুপম চাকমা, দিঘীনালা :
রঙিন সূর্যমুখীর হাসিতে ভরে উঠেছে পাহাড়ি জনপদের বিস্তীর্ণ বাগান। শীতের মৃদু রোদ আর নীল আকাশের নিচে সূর্যমুখী ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় করছেন পাহাড়ি তরুণীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট করতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বাঘাইছড়ি জেলার রুপাকারি, করেঙ্গাতলি, বঙ্গলতলি, সাজেকসহ বিভিন্ন সূর্যমুখী বাগানে সম্প্রতি দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। বিশেষ করে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে তরুণীরা দলবেঁধে বাগানে এসে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়।

স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, কয়েক বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ শুরু হলেও এবার ফলন ভালো হওয়ায় বড় পরিসরে বাগান করা হয়েছে। ফুল ফোটার মৌসুমে দর্শনার্থীদের জন্য বাগান উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এতে কৃষকেরা যেমন অতিরিক্ত আয় করছেন, তেমনি স্থানীয় পর্যটনও চাঙ্গা হচ্ছে।
৩৫নং বঙ্গলতলি ইউনিয়নের টিশা চাকমা নামে এক তরুণী দর্শনার্থী বলেন, “সূর্যমুখীর হলুদ রঙ আর পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি মিলিয়ে অসাধারণ দৃশ্য তৈরি হয়েছে। ছবি তোলার জন্য এর চেয়ে সুন্দর জায়গা আর হয় না।”
তবে অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে বাগান কর্তৃপক্ষ কিছু নিয়ম-কানুন জারি করেছে। ফুল নষ্ট না করা, নির্দিষ্ট পথে চলাচল এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে সবার প্রতি।

স্থানীয় প্রশাসন মনে করছে, এ ধরনের কৃষিভিত্তিক পর্যটন উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সূর্যমুখীর হাসিতে তাই শুধু বাগানই নয়, হাসছে পাহাড়ি এলাকার প্রত্যন্ত জনপদ।

















