শিরোনাম:

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি তীব্র দাবদাহ, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়া এবং নজিরবিহীন বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাঙ্গামাটি কাপ্তাই অঞ্চল। একদিকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে, অন্যদিকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো মৎস্যজীবী। পর্যটননির্ভর এই জনপদ এখন কার্যত পর্যটকশূন্য, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চরম স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পানির অভাবে থমকে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

​বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাঙ্গামাটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তীব্র গরমে একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন তলানিতে ঠেকেছে।
​কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি ইউনিট চালু রয়েছে। যা থেকে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে—যা স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় নগণ্য। ফলে রাঙ্গামাটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে দিন-রাত দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমে।
​নৌ-চলাচল ব্যাহত ও মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা
​হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ খাল ও উপখালগুলোতে নৌ-চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় দুই-ই বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এরই মধ্যে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন রক্ষায় ২৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে হ্রদে তিন মাসের জন্য মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের ওপর প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি খাদ্য সহায়তার কথা জানানো হলেও জেলেরা একে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কাপ্তাই এখন পর্যটকশূন্য। তীব্র গরম, হ্রদে নাব্যতার সংকট এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পর্যটকরা কাপ্তাই বিমুখ হয়ে পড়েছেন। ফলে হ্রদকেন্দ্রিক বোট মালিক, হোটেল-রিসোর্ট ও স্থানীয় দোকানদাররা লোকসানের মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, অনুকূল পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় পর্যটন খাতে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

​বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। বৃষ্টি না হলে হ্রদের পানির স্তর বাড়বে না, আর পানি না বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১টি সচল (মাত্র ৪০ মেগাওয়াট) হ্রদের পানি অস্বাভাবিক নিম্নস্তর, নৌ-চলাচল বিঘ্নিত,মৎস্য খাত ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু (২৫ এপ্রিল থেকে)

প্রকৃতি, অর্থনীতি ও জীবিকার এমন চতুর্মুখী সংকট কাটাতে এখন বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টির দিকেই চেয়ে আছে কাপ্তাইয়ের সাধারণ মানুষ।

মানিকছড়িতে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে শিশুর ভর্তি

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

দেশের হামের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় হামের উপসর্গ রোগী শূন্য ছিল। এই অবস্থায় উপজেলা মানুষজন খানিকটা স্বস্তিতে বসবাস ছিল। তবে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আট বছর বয়সী এক শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। এই খবর শুনে সাধারণ জনগণ দুচিন্তা পড়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসার ছাত্র শিশু আবু হানজাল। কয়েক দিন ধরে শরীরে উচ্চমাত্রার জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া, মুখের ভেতরে, গালের ভেতরে ও বাইরের অংশে ছোট দাগসহ হামের নানা উপসর্গ থাকলেও প্রথমে বিষয়টি হালকাভাবে নেন অভিভাবকেরা।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশুটির নানা আজ তাকে মানিকছড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক তাকে ভর্তি করে পৃথক রুমে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দিচ্ছেন ।

শিশুটির নানা উপজেলার গচ্ছাবিল এলাকার বাসিন্দা আবদুল লতিফ জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা হাম বলেই ধারণা করছেন। তবে তার অবস্থা মোটামুটি ভালো।

মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মোজাহেদুল ইসলাম বলেন, শিশু হানজালই প্রথম রোগী, যে হামের উপসর্গ নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছে। শিশুটিকে আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। হামের উপসর্গ রোগী কিনা রিপোর্ট পাওয়ার পরে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বাঘাইছড়ি মিনি স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৪টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুমতি ইউনিয়ন ফুটবল একাডেমি এবং বাঘাইছড়ি ফুটবল একাডেমি। খেলাটি উপভোগ করতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা পুরো স্টেডিয়ামকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (পিএসসি), অধিনায়ক, মারিশ্যা জোন, ২৭ বিজিবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিওএম. শাহিনুর রহমান, উপ-অধিনায়ক, মারিশ্যা জোন, ২৭ বিজিবি এবং বিজিবি এমএস মোঃ হাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক (কোয়ার্টার মাস্টার), মারিশ্যা জোন, ২৭ বিজিবি।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ওমর আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা, রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন বাহারী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আশিকুর রহমান মানিক। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করে বাঘাইছড়ি ফুটবল একাডেমি। খেলা শুরুর আগে অতিথিরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ, শৃঙ্খল জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ম্যাচে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুমতি ইউনিয়ন ফুটবল একাডেমি বিজয়ী হয়। খেলা শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

বেতবুনিয়া বেণুবন উত্তমানন্দ বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যে দানকার্য সম্পাদন

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল)২৬খ্রিঃ রাঙ্গামাটি সদরস্থ কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়ন’র বেণুবন উত্তমানন্দ বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে অষ্টপরিষ্কার সংঘদান ও জ্ঞাতিভোজন অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।
বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত অজিতানন্দ মহাথের’র শ্রদ্ধেয় পিতা কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান প্রয়াত অনন্ত বড়ুয়া (ধর্মবংশ)-এর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং মাতা প্রয়াত শান্তি বালা বড়ুয়ার তিথি উপলক্ষে পুত্র-কন্যা ও পরিবারের সদস্যদের আয়োজনে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

পশ্চিম সোনাইছড়ি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত নাইন্দা বাসা মহাথের’র সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধ্যম মনাইপাড়া শান্তিদ্বয় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুমেধানন্দ মহাথের।

সদ্ধর্মদেশনা প্রদান করেন পূর্ব মনাইপাড়া শান্তি নিকেতন বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত নাইন্দাচারা মহাথের, শীলছড়ি অভয় অরণ্য ভাবনা কুঠিরের অধ্যক্ষ ভদন্ত সাধনানন্দ মহাথের, বেণুবন সোনাইছড়ি সব্ব মঙ্গল বুদ্ধ ধাতু জাদী বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত রাহুলাপায়া থের,বেতবুনিয়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত উত্তরা থের এবং সোনাইছড়ি ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞাদ্বীপ থের সহ প্রধান পুণ্যার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুঁই চাকমা, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. বাদল বরণ বড়ুয়া এবং সভাপতি মাষ্টার প্রকাশ বড়ুয়া, মাষ্টার পংকজ কুসুম বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চৌধুরীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বেতবুনিয়া, মনাইপাড়া ও বেনুবণ এলাকার দায়িক-দায়িকা, বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের প্রতিনিধিসহ প্রয়াত অনন্ত বড়ুয়া (ধর্মবংশ)-এর পরিবারবর্গ একত্রিত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক পুণ্যার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বেণুবন উত্তমানন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত মাহাথের

×